ভোলাহাটে ষাটোর্ধ্ব প্রতিবন্ধী মা ও ছেলের ভাঙ্গা কুঁড়ে ঘরের খোঁজ রাখেনি কেউ

ভোলাহাট উপজেলা

স্টাফ রিপোর্টার: শীতের কনকনে ঠান্ডা। রাত ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার ইসলামপুর (নিমগাছী) গ্রামের মৃত ভোগার স্ত্রী ষাটোর্ধ্ব প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক বিধবা সোনা ভানের ভাঙ্গা কুঁড়ে ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ঘরের ফুটো দিয়ে টিপ টিপ করে চেরাগের আলো রশ্মি বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। কুঁড়ে ঘরের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে অনেক বার ডাক দিয়ে কারো সাড়া না পেয়ে ভিতরে ঢুঁকে পড়লাম। ঢুঁকে অবাক তাকিয়ে থাকলাম দীর্ঘ সময়। পাড়ার একজনের কিনে দেওয়া ঘরের ভেতর এলোমেলো বিছানাপত্র থাকা চৌকির উপর হাত-পা জড় করে বসে আছেন প্রতিবন্ধী বিধবা বৃদ্ধা সোনাভান। কি সুখ কি শান্তি তার চোখে মুখে ফুট ফুটে হাসি দিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। কনকনে ঠান্ডায় গায়ে পরে থাকা শাড়িটা জড়িয়ে হাঁটু দুটো চৌকির উপরে তুলে দু’হাতে জড়িয়ে ঠান্ডা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এ প্রতিবেদকের সাথে একডজন প্রতিবেশীর ভিড়।

কুঁড়ে ঘরে বসবাসে কি কি সমস্যা। খাওয়া দাওয়া কি ভাবে হয় এমন নানা সমস্যার কথা জানতে চাইলে সোনাভান হাঁসি মুখে এলোমেলো ভাবে বলতে শুরু করলেন তার জীবনের গল্প। বৃষ্টি হলে চালা দিয়ে পানি ঘরের ভেতর পড়ে ভিজে যায় ঘরে থাকা সব জিনিস পত্র। চালার ফুটোতে পলিথিন দিয়ে বন্ধ করলেও ঘর পানিতে ভর্তি হয়ে যায়। বিদ্যুতের বিল দিতে পারবে না তাই ইচ্ছা থাকলেও ঝলমলে আলো দেখার আফসোস করেন না। তারপরও ২৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী সন্তান রবুকে নিয়ে এ ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছেন। ঘরে চাল নেই। বাড়িতে চুলা নেই। গায়ে ঠান্ডা নিবারণের গরম কাপড় নেই। ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া নেই কোন সুযোগ সুবিধা। সোনা ভান বলেন, ঠান্ডার জন্য কার কাছে একটা কম্বল চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যে জোটেনি। এদিকে সারারাত মা ও ছেলে ভাঙ্গাচুরা ঘরে শুয়ে বসে পার করেন। দিনের আলো ফুটলে কুঁড়ে ঘর থেকে ভিক্ষার উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়েন গ্রামে গ্রামে মানুষের দরজায় দরজায়। ফিরেন সন্ধ্যায়। মা ও ছেলে দুজনই প্রতিবন্ধী। নেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা। তারপরও কেউ খোঁজ রাখেনি। অবশেষে গ্রামের মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা ফাইমুদ্দীন জুমার নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিদের কাছে সোনা ভানের ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা চান। সকল মুসল্লিরা বিন্দু বিন্দু করে সহায়তা করেছেন। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। সরকারি বেসরকারি সহায়তা নিয়ে প্রতিবন্ধী মা ও ছেলের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *