স্টাফ রিপোর্টার: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় মধ্যরাতে জ্বালানি তেল পাচারের সময় পুলিশ তেলবাহী গাড়ি ট্রলি ও তেলের ড্রাম জব্দ করেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল)দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে জ্বলালি পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলাহাট থানা পুলিশ উপজেলার সোনাজল বিল এলাকায় অবস্থিত হিরো ইটভাটায় অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে একটি তেলবাহী গাড়ি ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে ড্রামের মাধ্যমে তেল খালাস করে ট্রলিতে তুলে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে এসআই মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, কামাল হোসেন, মোঃ শাহীন আলম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পাচারচক্রের সদস্যরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তেলবাহী গাড়ি (চট্ট মেট্রো- ঢ ৪১-০৮৩০), পাচারে ব্যবহৃত ট্রলি ও ভুটভুটিসহ মোট আটটি গাড়ি এবং তেলের ড্রাম জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় কৃত্রিম জ্বালানি সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেল বেশি দামে বিক্রি করছে। তারা মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগও তোলেন। তাদের দাবি, পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের বঞ্চিত করে ট্রলি ও ট্রাক্টর মালিকদের কাছে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল লতিফ বলেন, যে তেল জব্দ করা হয়েছে সেটা আমাদের ফিলিং স্টেশনের তেল না। যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড থেকে আমার ফিলিং স্টেশনের নামে তেল বরাদ্দ করা হয়েছে ২৮ তারিখের জন্য।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক জানান, তেল পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পাচার চক্র পালিয়ে যায়। তেলবাহী গাড়ি ও পাচারে ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। তবে তেল গুলো কোন ফিলিং স্টেশনের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল সে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের তেল পাচার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও পাচার চক্রকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
