স্টাফ রিপোর্টার: বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের খুঁটির জোর কোথায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে অর্থনৈতিক দূর্নীতির অভিযোগে চাকরি চলে যায়।
এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও করেছেন অনেক ভুক্তভোগীরা। এদিকে দেলোয়ার হোসেন নিজেকে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা দাবী করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে সুবিধা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর ঢাকায় অবস্থান নিয়ে আইন পেশায় যুক্ত হন তিনি এবং বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ বাড়ান। এ সময় সাবেক সিনিয়র জেলা জজ আইনজীবী মাসদার হোসেনের মাধ্যমে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ভ্যাট আপিল মামলার দায়িত্ব পান তিনি। মামলার ভ্যাট জমা, আইনজীবীর ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ দেলোয়ার হোসেনকে মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে সে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি নিজের নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পল্টন শাখার দুটি হিসাবে জমা ও এফডিআর করেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি ৪০ লাখ টাকার এফডিআর এবং ১৫ জানুয়ারি ৩৫ লাখ টাকা জমা করা হয়।
এ ঘটনায় নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল দুদকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী মো. মুনকির খান অভিযোগ করেন, পাওনাদার আলমগীর হোসাইনের কথা বলে তার কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেন দেলোয়ার হোসেন। পরে মামলা হলে টাকা পরিশোধের মাধ্যমে আপোষে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
অন্যদিকে, কেরানীগঞ্জে জমি কেনার ক্ষেত্রে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে বাকি অর্থ না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জমির বিক্রেতা ফারুক হোসাইন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন উপায়ে আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম করে তিনি মানুষকে হয়রানির শিকার করছেন।
সাবেক জেলা জজ আইনজীবী মাসদার হোসেন বলেন, তার এক মক্কেলের মামলার ভ্যাট জমা ও অন্যান্য খরচ বাবদ দেলোয়ার হোসেনকে মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে অবৈধ ভাবে তার ব্যক্তিগত হিসাবে জমা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। আর নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মামলার ক্ষেত্রে তিনি কেবল আইনজীবীর ফি নিয়েছেন বলে জানান। অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের খুঁটির জোর কোথায় এমন প্রশ্ন তুলে প্রতিকারের দাবী করেছেন ভুক্তভোগীরা।
