স্টাফ রিপোর্টার: কারো উঁচু তলা কারো গাছতলা এভাবেই দিন চলে যাই সবার। কারো সামান্য অসুখে উড়াল দেন বিদেশে। কেউ মৃত্যু শয্যায় থেকে অর্থাভাবে চিকিৎসা চালাই ওঝার ঝাড় ফুঁক দিয়ে। এমনি একজন দিনমজুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার পোল্লাডাংগা জিন্নাহনগর গ্রামের মৃত নৈমুদ্দিনের ছেলে মুক্তার(৪৫ )।
দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয়ে হাত আর পা দিয়ে শরীরের শক্তিতে এনজিও সংস্থা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সবজি ক্রয় করে আয়ের আশায় ভ্যানে করে ঘুরতেন পথে পথে। সারাদিন যা আয় হতো তার সিংহ ভাগ চলে যেত ঋণের কিস্তিতে। খেয়ে না খেয়ে কোন রকম সংসার চলে যেত। এমন সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন দিনমজুর মুক্তার। চিকিৎসা করতে গিয়ে ধরা পড়লো পিত্তথলিতে পাথর এবং টিউমার। অপারেশন করতে হবে। কিন্তু অর্থাভাবে অপারেশন করতে না পেরে গ্রাম্য ওঝার ঝাড় ফুঁকের উপর ভর করে চলতে থাকেন বেশ কিছু দিন। কাজের কাজ কিছুই না হলে বাধ্য হয়ে আবারও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের কাছে ধার দেনা করে রহনপুর এক ক্লিনিকে যান অপারেশন করতে। ১৯ ডিসেম্বর/২৫ অপারেশন করে বাড়ি ফিরেন মুক্তার। ঔষধ খাওয়া আর বিছানায় শুয়ে থেকে বিশ্রাম নেওয়া চলতে থাকে। কিন্তু ঋণের কিস্তি নিতে এনজিও সংস্থার কর্মীরা বাড়িতে এসে অমানবিক চাপ প্রয়োগ করেন। তাদের চাপে এ দিনমজুর মুক্তার অসহায় হয়ে পড়েন । সুস্থ হয়ে উঠে ঋণের টাকা পরিশোধ করে দিতে চাইলেও তারা কিস্তির জন্য মানুষিক নির্যাতন চালিয়ে যায়। ফলে অপারেশনের ২১ দিনের মাথায় ঋণের টাকার চাপে অসুস্থ অবস্থায় কাজের সন্ধানে যান শিবগঞ্জ উপজেলায়। কাজ না পেয়ে ২৮ জানুয়ারি দুপুর ২ টার দিকে শিবগঞ্জের কানসাট থেকে রওনা দেন ভোলাহাট নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু শিবগঞ্জ ভোলাহাট সড়কের সোনাজল নামক স্থানে এসে সিএনজি গর্তে পড়ে যায়। এতে মুক্তার গুরুত্বর আহত হলে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান ।
দিনমজুর মুক্তারের স্ত্রী তসলিমা জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার স্বামীর বুকের ৫ টা হাড় ভেঙ্গে গেছে। এখানে অপারেশন করতে হয়েছে। পরে হাড় জোড়া না লাগার কারণে টাকার অভাবে রহনপুরের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন।এখন চিকিৎসা করার মত কোন টাকা পয়সা নেই। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ তার স্বামীর আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার খরচ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে ঔষধ খরচ চালাতে পারছেন না। ঋণের প্রায় এক লাখ টাকা দিতে পারচ্ছেন না আহত দিনমজুর মুক্তার। মৃত্যু শয্যায় ছটপট করা স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে স্বহৃয় ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্ত্রী তসলিমা। কেউ সহায়তা করতে চাইলে ০১৩৩৩৮৭৯৫৭৪(বিকাশ ) অনুরোধে ভাগ্নে সিহাব। অন্যান্য যোগাযোগে ০১৭৪৮৯৭৭৫৬৯(মুক্তার)।
